Impact Lens Podcast

Conversations on Disability, Inclusion, Leadership, and Systems Change

Impact Lens Podcast is an accessible audio and video storytelling platform that explores disability, inclusion, leadership, and social innovation through authentic conversations and lived experiences. impactlenspodcast.substack.com

Episodes

  1. Sep 27

    যেভাবে বদলে গেল বাংলাদেশের ইতিহাস: মনসুর আহমেদ চৌধুরীর এক অদেখা ভুবন জয়ের গল্প

    সাত বছর বয়সে খেলতে গিয়ে একটি টেনিস বলের আঘাতেই চিরতরে নিভে যায় চোখের আলো। ১৯৫৬ সালের সেই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা একটি শিশুর জীবনকে অন্ধকারে ঠেলে দিলেও, সেই অন্ধকার থেকেই তিনি একদিন রচনা করেছেন লাখো মানুষের অধিকার আদায়ের পথ। Impact Lens Podcast-এর নতুন পর্বে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম এক জীবন্ত কিংবদন্তির—আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় মনসুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ এবং স্থপতি। সংগ্রাম ও শিক্ষার কণ্টকাকীর্ণ পথচলা তৎকালীন সময়ে বাংলাদেশে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের লেখাপড়ার জন্য কোনো স্কুল ছিল না। ১৯৫৭ সালে ঢাকা রোটারি ক্লাবের উদ্যোগে শুরু হওয়া দেশের প্রথম দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলের প্রথম ছাত্র হিসেবে ব্রেইল পদ্ধতিতে তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়। এরপরের গল্পটি শুধুই বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাওয়ার। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রাইভেট ম্যাট্রিক (SSC) পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পেতে তাকে লড়তে হয়েছে শিক্ষা বোর্ডের সাথে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কার্জন হলের লাইব্রেরি থেকে বের করে দেওয়া বা আঙুলের ছাপ না মেলার অজুহাতে স্কলারশিপের টাকা তুলতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হওয়া—কোনো অবজ্ঞাই তাকে তার লক্ষ্য থেকে সরাতে পারেনি। তৎকালীন উপাচার্যের হস্তক্ষেপে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পড়াশোনার অধিকার নিশ্চিত করেন। অধিকার আদায়ের লড়াই ও প্রাতিষ্ঠানিক অবদান “Nothing about us without us” (আমাদের ছাড়া আমাদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নয়)—এই নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাসী মনসুর আহমেদ চৌধুরী। তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি একাধিক যুগান্তকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন: * এবিসি (ABC): ১৯৭৮ সালে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের সহায়তার জন্য ‘অ্যাসিস্টেন্স ফর ব্লাইন্ড চিলড্রেন’ গঠনে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। * জীবন তরী: নদীমাতৃক অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের পরিহারযোগ্য প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধের জন্য ১৯৯৯ সালে দেশের প্রথম ভাসমান হাসপাতাল ‘জীবন তরী’ প্রতিষ্ঠা করেন। * ভিপস (VIPS) ও অন্যান্য: দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিশ্ববিদ্যালয় গ্র্যাজুয়েটদের ঐক্যবদ্ধ করতে ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ভিপস। এছাড়াও সিএসআইডি (CSID) ও সিডিডি (CDD)-এর মতো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। * আন্তর্জাতিক অঙ্গনে: ২০০৬ সালে জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার সনদ (UNCRPD) প্রণয়নের চূড়ান্ত অধিবেশনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। এপিসোড থেকে কিছু স্মরণীয় উক্তি “Firmness is needed to win the success, not the sight. দৃঢ়তা যদি তোমার থাকে, তাহলে সাফল্য তোমার অবশ্যই আসবে।” “বাবা বলতেন যে তুমি প্রথম। তোমাকে Fight করে এগিয়ে যেতে হবে। তোমাকে দেখে অন্যরা অনুসরণ করবে।” “সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমরা প্রথমে মানুষ, তারপরে প্রতিবন্ধী।” এই পর্বে আমরা কথা বলেছি প্রতিবন্ধী তরুণদের কর্মসংস্থানের অভাব, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অসহযোগিতা এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। প্রতিবন্ধী শিশুদের বাবা-মায়েদের প্রতি তার বিশেষ বার্তা এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য তার দিকনির্দেশনা এই পর্বটিকে করে তুলেছে ইতিহাসের এক অনবদ্য দলিল। 🎧 পুরো আলোচনাটি শুনতে বা দেখতে ক্লিক করুন: * YouTube: এই অনুপ্রেরণাদায়ী পর্বটি সম্পর্কে আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না। সাবস্ক্রাইব করে Impact Lens-এর সাথেই থাকুন! This is a public episode. If you would like to discuss this with other subscribers or get access to bonus episodes, visit impactlenspodcast.substack.com

  2. Aug 3

    এআই কি প্রতিবন্ধী মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে?

    মাত্র দুই বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন তিনি। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে বড় হওয়া, ব্রেইল বই ছাড়া স্কুল, আর সমাজের হাজারো বাধা পেরিয়ে আজ তিনিই বাংলাদেশের ডিজিটাল এক্সেসিবিলিটি আন্দোলনের অন্যতম বড় মুখ। Impact Lens Podcast এর দ্বিতীয় পর্বে হোস্ট মো. নাজমুস সাকিবের সাথে বসেছিলেন ইউনেসকো লরিয়েট এবং award winning ডিজিটাল এক্সেসিবিলিটি এক্সপার্ট ভাস্কর ভট্টাচার্য দাদা। এই কথোপকথনে উঠে এসেছে তার নিজের জীবনসংগ্রামের গল্প, একটা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ড বৈষম্যের লড়াই, AI কীভাবে প্রতিবন্ধী মানুষদের জীবনে স্বাধীনতা এনে দিচ্ছে, আর বাংলাদেশ এক্সেসিবিলিটির দিক থেকে এখনো কোথায় পিছিয়ে আছে। এই পর্বে যা থাকছে চট্টগ্রামের গ্রাম থেকে উঠে আসা এক সংগ্রামী শৈশবের গল্প Google Maps, Uber, Google Lookout এর মতো AI টুল কীভাবে প্রতিদিনের স্বাধীনতা এনে দিচ্ছে জাপান আর বাংলাদেশের এক্সেসিবিলিটির ফারাক একটা ব্যাংকের বিরুদ্ধে ক্রেডিট কার্ড বৈষম্যের লড়াই আর জয় কেন ইউনিভার্সাল ডিজাইন শুধু প্রতিবন্ধী মানুষদের জন্য না, সবার জন্যই দরকার প্রতিবন্ধী সন্তানের বাবা মায়েদের প্রতি একটা আশার বার্তা পুরো পর্বটি দেখুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে পর্বের মূল অংশসমূহ 00:00 ইন্ট্রো 02:32 হোস্ট ওয়েলকাম ও গেস্ট ইন্ট্রোডাকশন, ভাস্কর ভট্টাচার্য 03:52 ব্লাইন্ডফোল্ড এক্সারসাইজ, অন্ধকারের অভিজ্ঞতা 04:23 চট্টগ্রামের গ্রাম থেকে সংগ্রাম, শৈশব ও শিক্ষা জীবন 07:47 জাপান যাত্রা, জীবনের টার্নিং পয়েন্ট 08:25 স্মার্টফোন, স্ক্রিন রিডার ও দৈনন্দিন প্রযুক্তি 13:06 AI যেভাবে স্বাধীনতার দ্বার খুলে দিয়েছে 17:11 বাংলাদেশ বনাম জাপান, গ্লোবাল এক্সেসিবিলিটির চিত্র 22:29 বাংলাদেশে ডিজিটাল এক্সেসিবিলিটির প্রধান সংকট 28:27 ব্যাংকিং, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় এক্সেসিবিলিটির ঘাটতি 30:42 ক্রেডিট কার্ডের লড়াই, একটি বৈষম্যের গল্প 35:02 এক্সেসিবিলিটি অ্যাওয়ার্ড ও করপোরেট গড়িমসি 36:26 অসহায়ত্ব, অপমান ও প্রাপ্তির গল্প 40:47 প্রযুক্তি যখন জীবন বাঁচায় 43:02 অভিভাবকদের প্রতি বার্তা 47:20 সম্মানই জীবনের সবচেয়ে বড় পুরস্কার 50:11 Rapid Fire Round 53:38 আউট্রো গেস্ট পরিচিতি ভাস্কর ভট্টাচার্য একজন ইউনেসকো লরিয়েট এবং গ্লোবালি রিকগনাইজড ডিজিটাল এক্সেসিবিলিটি এক্সপার্ট, বাংলাদেশের ডিজেবিলিটি রাইটস মুভমেন্টের সবচেয়ে পরিচিত মুখদের একজন। দুই বছর বয়সে দৃষ্টিশক্তি হারানো এই মানুষটা বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাগডন্ডি গ্রামে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন ইতিহাস, আর জাপানে ডাস্কিন লিডারশিপ ট্রেনিং তার জীবনের একটা টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। এখন তিনি সারা বাংলাদেশে তরুণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল এক্সেসিবিলিটি নিয়ে ট্রেনিং দেন, হাজার হাজার সরকারি ওয়েবসাইটকে WCAG লেভেল এ তে নিয়ে আসতে ভূমিকা রেখেছেন, আর একটা ব্যাংকের বিরুদ্ধে মানবাধিকার কমিশনে ক্রেডিট কার্ড বৈষম্যের মামলা জিতেছেন। বর্তমানে তিনি প্রযুক্তি ও প্রতিবন্ধিতা নিয়ে একটা বই লিখছেন, নাম প্রযুক্তির আলয়। হোস্ট পরিচিতি মো. নাজমুস সাকিব একজন ডিজেবিলিটি ইনক্লুশন লিডার, ইয়ুথ অ্যাডভোকেট এবং Impact Lens Podcast এর এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার। পলিসি ওয়ার্ক, অ্যাডভোকেসি আর স্টোরিটেলিং এর মাধ্যমে তিনি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নেতৃত্ব ও কণ্ঠস্বর তুলে ধরার এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। Impact Lens Podcast এ আমরা মূলত আলোচনা করি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ক্ষমতায়ন, তাদের সামাজিক ও আইনি অধিকার, আর রাষ্ট্র থেকে সমাজ পর্যন্ত বিস্তৃত অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের বিভিন্ন দিক নিয়ে। নতুন পর্ব সবার আগে পেতে সাবস্ক্রাইব করে রাখুন। This is a public episode. If you would like to discuss this with other subscribers or get access to bonus episodes, visit impactlenspodcast.substack.com

  3. Jul 15

    চিকিৎসক থেকে প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের সহযাত্রী

    Impact Lens Podcast-এর প্রথম পর্ব শুরু করতে গিয়ে আমাদের একটি ইচ্ছা ছিল—প্রতিবন্ধিতা নিয়ে প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে এমন একজন মানুষের গল্প শোনা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আন্দোলনের ভেতর থেকে পরিবর্তনের সাক্ষী এবং অংশীদার। সেই কারণেই আমাদের প্রথম অতিথি ছিলেন প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী, নীতি-পরামর্শক এবং উন্নয়ন পেশাজীবী ড. নাফিসুর রহমান। নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি কোনো পদবি বা অর্জনের কথা আগে বলেন না। বরং একটি পরিচয়েই তিনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন—প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বন্ধু ও সহযাত্রী। “আমি অনেক বেশি খুশি হয়েছি যখন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিলে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বন্ধু ও সহযাত্রী’ হিসেবে। আসলে আমি নিজেকেও সেভাবেই দেখি।” এই পরিচয়ের পেছনে রয়েছে তিন দশকেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা, অসংখ্য মানুষের সঙ্গে পথচলা এবং প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে নিজের ধারণাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আবিষ্কার করার এক দীর্ঘ যাত্রা। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছিল না ড. নাফিসুর রহমানের গল্পের শুরুটা একটু অপ্রত্যাশিত। ছোটবেলা থেকে তাঁর স্বপ্ন ছিল স্থপতি হওয়ার। কিন্তু পরিবারের ইচ্ছায় তিনি ভর্তি হন মেডিকেল কলেজে। পড়াশোনা শেষ করে চিকিৎসক হিসেবেও কাজ শুরু করেন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতো, জীবন যেন ঠিক পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে। কিন্তু ভেতরে ভেতরে তিনি অন্যরকম এক প্রশ্নের উত্তর খুঁজছিলেন। মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় থেকেই তিনি সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মেডিসিন ক্লাবের Patients Welfare Project-এ কাজ করতে গিয়ে তিনি বুঝেছিলেন, একজন মানুষের জীবনে চিকিৎসার বাইরেও অসংখ্য বাস্তবতা কাজ করে। চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পরও সেই প্রশ্নগুলো তাঁকে ছাড়েনি। তিনি ভাবছিলেন—কোন বিষয়ে বিশেষায়িত হবেন? ভবিষ্যৎ কোন দিকে নিয়ে যাবেন? ঠিক সেই সময় একটি সংবাদপত্রে তাঁর চোখে পড়ে একটি বিজ্ঞাপন। একটি ব্রিটিশ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এমন একজন চিকিৎসক খুঁজছে, যিনি ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসের বাইরে গিয়ে বাংলাদেশে প্রতিবন্ধিতা বিষয়ক একটি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল তৈরির কাজ করবেন। তিনি আবেদন করলেন। আর অবাক করার মতো বিষয় হলো—১৩৫ জন প্রার্থীর মধ্যে নির্বাচিতও হয়ে গেলেন। তিন মাস, যা বদলে দিল একটি জীবন নতুন চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁকে জানানো হয়, প্রথম তিন মাস থাকবে probation period। তখনও তিনি জানতেন না, এই সময়ের অর্থ কী। এক আত্মীয়ের কাছে জানতে পারেন, তিন মাস পরে প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত নেবে তাঁকে রাখবে কি না। এই কথাটি তাঁর মনে আরেকটি প্রশ্ন জাগায়। “ওরা যদি তিন মাস পরে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, আমিও তো নিতে পারি—আমি এই পেশায় থাকব কি না।” এই তিন মাসেই তিনি এমন কিছু করলেন, যা পরবর্তী জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। তিনি বই পড়তে শুরু করলেন। প্রতিবন্ধিতা নিয়ে। প্রতিবন্ধী মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে শুরু করলেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা শুনলেন। আর তখনই তাঁর সবচেয়ে বড় উপলব্ধি। “আমরা চিকিৎসকরা মনে করি প্রতিবন্ধিতা সম্পর্কে অনেক কিছু জানি। আসলে আমরা খুব অল্পই জানি। চিকিৎসাগত পুনর্বাসনের কথা জানি, কিন্তু সামাজিক পুনর্বাসন, অর্থনৈতিক পুনর্বাসন, অধিকার—এসব বিষয়ে আমাদের পাঠ্যক্রমে কিছুই ছিল না।” এই উপলব্ধিই তাঁকে নতুন এক পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিনি বুঝতে শুরু করেন, একজন মানুষের শরীরের সীমাবদ্ধতার চেয়েও বড় বাস্তবতা হলো সমাজের তৈরি করা সীমাবদ্ধতা। ‘ছয় মাসও থাকবে না’ ড. নাফিসুর রহমান একটি মজার স্মৃতিও শোনান। তিনি যখন প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হলেন, তখন এই ক্ষেত্রের অনেক প্রবীণ কর্মী নাকি নিজেদের মধ্যে বাজি ধরেছিলেন। একজন ডাক্তার এই সেক্টরে কতদিন টিকবেন? কারও ধারণা ছিল ছয় মাস। কারও ধারণা ছিল তারও কম। কারণ সবাই ভেবেছিলেন, তিনি আবার চিকিৎসা পেশায় ফিরে যাবেন। আজ সেই ঘটনার বত্রিশ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, “বাজিটা আসলে কী নিয়ে ছিল জানি না। তবে যাঁরা ছয় মাস বলেছিলেন, তাঁদের ধারণা আর ঠিক হয়নি। আমি আর ফিরে যাইনি।” একটি ম্যানুয়াল, একটি আন্দোলনের শুরু তাঁর প্রথম দায়িত্ব ছিল প্রতিবন্ধিতা নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল তৈরি করা। কাজটি শুরু করতে গিয়ে তিনি আরেকটি বিস্ময়কর তথ্য জানতে পারেন। তখন শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বজুড়েও এই বিষয়ে পরিচিত প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল ছিল হাতে গোনা কয়েকটি। প্রচলিত পদ্ধতিতে বই লেখার বদলে তাঁরা ভিন্ন পথ বেছে নেন। মানুষ প্রতিবন্ধিতা নিয়ে কী কী প্রশ্ন করতে পারে—সেই সম্ভাব্য প্রশ্নগুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় ম্যানুয়ালটি। পরবর্তীতে এই কাজই বাংলাদে

    চিকিৎসক থেকে প্রতিবন্ধী অধিকার আন্দোলনের সহযাত্রী

About

Impact Lens Podcast is an accessible audio and video storytelling platform that explores disability, inclusion, leadership, and social innovation through authentic conversations and lived experiences. impactlenspodcast.substack.com