সদগুরু মহর্ষি মহামানস

Maharshi MahaManas

সদগুরু, মহর্ষি মহামানস। তিনি একালের একজন মহান মানবহিতৈষী ঋষি, বিজ্ঞানী, দার্শনিক। সারা জীবন ধরে তিনি মানুষের প্রকৃত বিকাশ এবং জীবন ও মহাজীবনের পরম সত্য অন্বেষণ তথা উন্মোচনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। মানুষকে অজ্ঞান-অন্ধত্ব থেকে মুক্ত করতে, মানব মনের সঠিক বিকাশ ঘটাতে, তিনি সুদীর্ঘকালের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মানুষ গড়ার এক অত্যুৎকৃষ্ট শিক্ষা পদ্ধতি আমাদের দিয়েছেন, যার নাম। ‘মহামনন’ আত্ম-বিকাশ যোগ শিক্ষাক্রম। সদগুরু মহামানস একজন বহুমুখী সৃজন ক্ষমতা সম্পন্ন বহুব্যপক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিল্পী, গবেষক, মনোবিদ ও শিক্ষাবিদ। একজন জ্ঞান পথের ও বিকাশ পথের পথিক।

  1. 09/14/2020

    বিশ্বাসের চশমাটাকে খুলে রেখে দেখো

    প্রচলিত ধর্ম--- দ‍র্শন---মতবাদ -এর কথা আমি বলতে পারবো না। আমাদের ধর্ম-দর্শন-মতবাদে এই মহাবিশ্ব অস্তিত্বই হলো ঈশ্বর। এই বিশ্ব-অস্তিত্বকে কি তুমি অস্বীকার করতে পারো !? বিশ্বাসের চশমাটাকে খুলে রেখে দেখো।​ 'মহাধর্ম' ও 'মহাবাদ'-এর মধ্যে তুমি তোমার বিশ্বাসের ঈশ্বরকে খুঁজতে যেওনা। —পাবেনা। তথাকথিত স্বর্গলাভ– ঈশ্বরলাভ অথবা ব্রহ্মলাভের কোন পথ বা পদ্ধতির সন্ধান নেই এখানে। আছে মানবত্ব লাভের উপায়। বিশ্বাসের চশমাটাকে খুলে রেখে, যথাসম্ভব প্রভাবমুক্ত হয়ে— খোলা মন নিয়ে, সত্যানুসন্ধিৎসুর দৃষ্টি নিয়ে-– এর গভীরে প্রবেশ করলে, তবেই বিস্ময়কর সত্য তোমার কাছে প্রকাশলাভ করবে। 'মহাধর্ম' ও 'মহাবাদ' হলো— যথাক্রমে এক স্বতন্ত্র ধর্ম এবং স্বতন্ত্র মতবাদ। বিভিন্ন শাস্ত্র —বিভিন্ন মতবাদ অথবা প্রচলিত ধ্যান-ধারণার সাথে এর তুলনামূলক বিচার করতে গেলে, ধন্দে পড়ে যাবে। দেখবে, কোথাও হয়তো মিলছে, কোথাও মিলছে না। তারফলে, তোমরা অনেকেই মানসিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে— হতবুদ্ধি হয়ে যেতে পারো। তাই, 'মহাধর্ম' ও 'মহাবাদ'-এর দ্বারা লাভবান হতে চাইলে, একে এর দৃষ্টিকোণ থেকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যুক্তিবাদী সচেতন মুক্ত মন দিয়ে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। ঠিকমতো উপলব্ধি হলে, তখন বুঝতে পারবে, কোনটা লভ্য ---কোনটা লাভ করা সম্ভব, আর কোনটা আকাশ-কুসুম কল্পনা! বুঝতে পারবে, এতদিন কিভাবে মরিচিকার পিছনে ছুটে ছুটে মরেছো তুমি। বুঝতে পারবে মানব জীবনের প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য কী। তুমি নিজেই উপলব্ধি করতে পারবে, তোমার জীবনের অধিকাংশ অসাফল্য— পরাজয়, হানি, অধিকাংশ দুঃখ– কষ্ট —যন্ত্রনার পিছনে প্রধানত দায়ী—তোমার অজ্ঞানতা, তোমার অন্ধ-বিশ্বাস। সঠিকভাবে নিজেকে না জানার ফলে, তোমার সামনের মানুষকে ঠিকমতো চিনতে না পারার ফলে, তুমি বহুবার ঠকেছ— প্রতারিত হয়েছো। এর পুণরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে, যতদিন না তুমি আলস্যতা কাটিয়ে সজাগ–সচেতন থেকে— সত্য– মিথ্যা, বাস্তব– অবাস্তব-কে চেনার ক্ষমতা লাভ করছো। নিজেকে সজাগ–সচেতন রেখে— প্রভাবমুক্ত হয়ে, যুক্তি-বিচার প্রয়োগ করে, সত্যানুসন্ধান করতে, গভীরভাবে চিন্তা করতে, অনেকটাই মানসিক পরশ্রম করতে হয়। তার চাইতে বিশ্বাস করা অনেক সহজ কাজ। বিশ্বাস করতে তেমন পরিশ্রমের দরকার হয় না। তাই, মানসিক শ্রমবিমুখ মানুষ— বিশ্বাসের পথটাই বেশি পছন্দ করে। কিন্তু তার ফলে যে কী ক্ষতি হয়, তা’ বোঝার জন্যেও মানসিক পরিশ্রম করতে সে নারাজ বা অপারক। বিশ্বাসের পথে আত্মোপলব্ধি— সত্যোপলব্ধি, ঈশ্বরলাভ অথবা ঈশ্বরত্ব লাভ কিছুই সম্ভব হয় না। তবু, মানুষ বিশ্বাসকে আঁকড়ে ধ’রে ছুটে–ছুটে মরে। তাই, মানুষকে সজাগ-সচেতন —যুক্তিবাদী —সত্যানুসন্ধিত্সু ক’রে তুলতে, মানুষের জীবনে একের পর এক দুর্ভাগ্য নেমে আসে। মানুষ যথেষ্ট সজাগ-সচেতন না হওয়াবধি বারবার আঘাত আসতে থাকে, এবং আসতেই থাকে। বিশ্বাসের দ্বারা পৃথিবীতে যতটুকু ভালো হয়েছে, মন্দ হয়েছে তার চাইতে অনেক গুণ বেশি। সারা পৃথিবী জুড়ে যত অমানবিক কর্ম সংঘটিত হয়েছে, যত রক্তপাত হয়েছে  ও হচ্ছে, তার অধিক অংশের মূলেই আছে বিশ্বাস। অন্ধ বিশ্বাস। আর, যদি মনে কর, তোমার বিশ্বাসের পথই শ্রেষ্ঠ পথ, ওটাই শেষ কথা, তাহলে বুঝতে হবে, মহাধর্ম ও মহাবাদ তোমার জন্য নয়।​ এই মহাবিশ্বরূপ ঈশ্বরকে উপলব্ধি করা নিম্নচেতন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই, শঠতা ও প্রবঞ্চনাপূর্ণ প্রচলিত ধর্ম তাকে দিয়েছে সহজবোধ্য কাল্পনিক ঈশ্বর, যাতে সে তা-ই নিয়েই নির্বোধের স্বর্গে অলীক সুখে মশগুল হয়ে থাকে। মানুষ যাতে ক্রমশ চেতনা-সমৃদ্ধ হয়ে— কোনো দিনই আসল ঈশ্বরকে জানার এবং উপলব্ধি করার ক্ষমতা অর্জন করতে না পারে, তারজন্য সমস্ত আয়োজনই পাকা করে রেখেছে এই ধর্ম নাম্নী অধর্ম। একমাত্র প্রবল চেষ্টার দ্বারাই, ধর্মের এই কঠিন মায়াজালের ফাঁদ থেকে বেড়িয়ে এসে মুক্তি লাভ সম্ভব। চেষ্টা করো, নিশ্চয়ই পারবে। অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত হয়ে যুক্তিপ্রিয় সত‍্যপ্রেমী হয়ে ওঠো। আমার শুভকামনা তোমার সঙ্গে থাকবে। দীর্ঘকাল অন্ধকারে থাকতে অভ‍্যস্ত হয়ে গেলে, যেমন আলোতে আসতে ভয় হয়, দীর্ঘ বন্দী-জীবন কাটানোর পর, মুক্ত জীবনে ফিরে আসতে যেমন ভয় হয়, তেমনই আজন্ম ধর্মের ঘেরাটোপে বন্দী থেকে অভ‍্যস্ত মানুষ--- ধর্মের মোহজাল ছিঁড়ে বেড়িয়ে এসে মুক্তজীবন লাভের কথা ভাবতেই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। এই ভয়কে জয় কোরে মুক্তিলাভে সক্ষম হয় যে (যুক্তিপ্রিয় সত‍্যপ্রেমী মুক্তমনের) জন, সে-ই হলো প্রকৃত আলোকপ্রাপ্ত মানুষ।।

  2. 09/14/2020

    ভাগ্য আসলে কী

    ভাগ্য আসলে কী ভাগ্য হলো~ মহাবিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে মহাবিশ্ব-সৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথেই স্বয়ংসৃষ্ট--- স্বয়ংক্রিয় এক জাগতিক ব‍্যবস্থা। এই ব‍্যবস্থায়, ঐ বিস্ফোরণের মূহুর্তেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারিত হয়ে যায়--- পরম্পরাগত ঘটনাক্রমে কখন--- কোথায়--- কী ঘটবে। এরই নাম ভাগ্য।  এখানে যাকিছু ঘটছে, সব কিছুর মূলে রয়েছে ভাগ্য, ভাগ্যই সব কিছুর জন্য দায়ী। আর এই ভাগ্য পূর্ব নির্ধারিত এবং অপরিবর্তনীয়। তবে, ভাগ্যকে কার্যকর ফলবৎ হতে, বিভিন্ন কার্য-কারণের ভিত্তিতে, পরিবেশ-পরিস্থিতি সাপেক্ষে, যুক্তি-বিজ্ঞানের পথ ধরেই অগ্রসর হতে হয়। ভাগ্যের জন্যেই আমরা কেউ সুখী -কেউ দুঃখী, কেউ সফল –কেউ অসফল৷ ভাগ্যের জন্যেই আমাদের এত দুঃখকষ্ট-যন্ত্রনা। তাই, ভাগ্যকে খুব ভালোভাবে জানা প্রয়োজন৷ জ্ঞান ও চেতনার স্বল্পতার কারণে ভাগ্য এবং তার গতিবিধি সহ সমস্ত কার্য-কারণ যুক্তি-বিজ্ঞান আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়না। আবার কখনো কিছু অংশে দৃষ্টিগোচর হলেও তার প্রতিকার দৃষ্টিগোচর বা ধারণাগত হয়না, অথবা প্রতিকার সম্ভব হয়ে ওঠেনা৷ ফলে, আমরা অসহায়ের মতো দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রনা ভোগ করে থাকি, অসফল ব্যর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হই৷ মনে রাখতে হবে, আমরা এবং আমাদের যাবতীয় কার্যকলাপ, সবই ভাগ্যের দান৷ আমরা কেউই ভাগ্য প্রসুত ঘটনা প্রবাহের বাইরে নই। তাই, আমাদের কর্তব্য ভাগ্যকে তার স্বরূপে জানা।

    ভাগ্য আসলে কী
  3. 09/13/2020

    বিশ্ব আত্মা বা ঈশ্বর মন :

    বিশ্বাত্মা বা ঈশ্বর মন নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। যারা নিজের মনটাকেই এখনো ঠিকমতো বুঝতে বা জানতে পারেনি, তাদের পক্ষে ঈশ্বর-মনকে বোঝা বা জানা, তার অস্তিত্ব উপলব্ধি করা সত্যিই দুষ্কর। মনকে বুঝতে হয় মন দিয়েই। আর তার জন্য প্রয়োজন হয়--- সজাগ-সচেতন-সত‍্যপ্রিয়, যথেষ্ট বিকশিত মুক্ত-মন। বিশ্বাত্মা বা ঈশ্বর-মনের অস্তিত্ব উপলব্ধি করার পক্ষে এই নিদর্শনটি অনেকটা সহায়ক হবে আশাকরি। মরণশীল জীবের বংশবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে--- তাদের অস্তিত্ব, বংশধারা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে, ঈশ্বর যে কৌশল রচনা করেছে, তাতেই তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। আর, বুদ্ধিমত্তাই হলো 'মন'-এর উপস্থিতির নিদর্শন। অর্থাৎ যেখানে বুদ্ধি আছে, সেখানে অবশ্যই মন আছে। যেমন, কোথাও ধোঁয়া থাকলে--- আমরা সেখানে আগুনের অস্তিত্ব বা উপস্থিতি সহজেই অনুমান করতে পারি। এবার বলি, সেই কৌশলের কথা--- যৌন সুখের ব্যবস্থা করা এবং যৌনসুখের প্রতি জীবকে প্রলুব্ধ ক'রে তুলে, ---তার মধ্যে যৌন মিলনের তাড়নারূপ প্রোগ্রাম-এর অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে, জীবকে যৌনমিলনে অনুপ্রাণিত বা বাধ্য ক'রে তোলার কৌশলটি অবশ্যই ঈশ্বরের বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। স্রষ্টার বুদ্ধিমত্তার আরেকটি নিদর্শন হলো— উন্নতমানের জীব সৃষ্টির উদ্দেশ্যে নারী ও পুরুষ জীব সৃষ্টি করা এবং তাদের যথোপযুক্ত শরীর-যন্ত্র তৈরি করা। এসবের পিছনে স্পষ্টতই বুদ্ধিমত্তা বা বুদ্ধিমান সচেতন মনের অস্তিত্ব উপলব্ধ হয়ে থাকে। এছাড়া, আমরা যাতে নিজেদের শরীর বিনষ্ট ক'রে না ফেলি, আমরা রোগ-ব‍্যাধি, আঘাত-- আক্রমণ থেকে যাতে বাঁচার চেষ্টা করি, সেজন্য স্রষ্টা* আমাদের মধ্যে যন্ত্রণা বোধ দিয়েছে। যদিও, তার সব কাজই সম্পূর্ণ ও ত্রুটিমুক্ত নয়, আমাদের অনেকের কাছেই যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়, তবুও সৃজনকালে (চেতনার ক্রমবিকাশের একটি বিশেষ স্তরে) তার জ্ঞান ও চেতনা সাপেক্ষে সে অনেক কিছুই করেছে। স্রষ্টা আমাদের দিয়েছে অনেক আত্মরক্ষার ব‍্যবস্থাও। খুঁজলে, এইরকম আরো অনেক নিদর্শন পাওয়া যাবে। আর একটু সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করলে, দেখা যাবে--- আমাদেরকে স্বল্পচেতন মানব থেকে ক্রমশ উচ্চ--- আরও উচ্চ চেতনা ও জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ ক'রে তোলার উদ্দেশ্যে , সে নানা প্রকার কৌশল তৈরী করেছে। এছাড়াও, আরো সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যাবে, সুদীর্ঘকাল ধরে ঈশ্বর-মনও ক্রমশ একটু একটু ক'রে বিকশিত হয়ে চলছে। মনোবিকাশের সাথে সাথে তার সৃজন ক্ষমতারও যে উন্নতি হয়েছে, তা তার ক্রমোন্নত (কীট থেকে আরম্ভ করে উন্নত মানুষ) সৃষ্টির দিকে তাকালেই তা' স্পষ্ট বোঝা যাবে। আমাদের কাছে বিশ্বাত্মা/ ঈশ্বর অস্তিত্বের প্রমান-- বিশ্বাত্মা/ ঈশ্বর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে হলে, আমাদের প্রমাণ করতে হবে--- ঈশ্বর-মনের অস্তিত্ব। আমাদের 'মহাবাদ' দর্শন অনুসারে --- আমরা মনে করি, সমস্ত বিশ্ব-ব্রহ্মান্ডই হলো ঈশ্বর-শরীর বা ঈশ্বর। এক্ষেত্রে, বিশ্বাত্মা/ ঈশ্বরের শরীর-অস্তিত্বের প্রমাণ দাখিল করার প্রয়োজন নেই। শুধু প্রমাণ করতে হবে, এই শরীরের মধ্যে একটি 'মহামন' আছে। আমরা মনে করি, বিশ্বাত্মা/ ঈশ্বর এই বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড সৃষ্টি করেনি। সে নিজেই এই বিশ্ব-ব্রহ্মান্ড। অর্থাৎ তার পিছনে এক সৃষ্টিকর্তা অথবা সৃষ্টিরহস্য আছে। এ'নিয়ে পূর্বেই আমাদের 'মহাবিশ্ব সৃষ্টিরহস্য উন্মোচন' নামক সৃষ্টিতত্ত্বে যথাসম্ভব বর্ণনা করা হয়েছে। এই দর্শনে আমরা দেখেছি, বিশ্বাত্মা/ ঈশ্বর শুধু উদ্ভিদ ও জীব সৃষ্টি করেছে। পৃথিবীতে এই জীবশ্রেষ্ঠ মানুষ, সে আবার সৃষ্টি করেছে অনেক কিছু। বস্তুতঃ এই জীব সৃষ্টির কর্তা হলো ঈশ্বরের মন। আমাদের ক্ষেত্রেও, আমরা যাকিছু সৃষ্টি করছি--- তার প্রকৃত স্রষ্টা হলো আমাদের মন। এখন, এই মনকে বুঝতে হয় মন দিয়ে। মনের অস্তিত্বকে সরাসরি দেখা বা অনুভব করা--- আমাদের অধিকাংশ স্বল্প চেতন মনের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। মনের অস্তিত্বকে আমরা অনুভব করি--- মনের কার্যকলাপের মাধ্যমে। মন হলো অনেকাংশে কম্পিউটার সফটওয়্যার-এর মতো একটি অতি উচ্চমানের সফটওয়্যার বিশেষ। এই সফটওয়ারের পিছনেও থাকে ডেভলপার---প্রোগ্রামার। এমনি এমনি কিছুই সৃষ্টি হয়ে যায় না।

About

সদগুরু, মহর্ষি মহামানস। তিনি একালের একজন মহান মানবহিতৈষী ঋষি, বিজ্ঞানী, দার্শনিক। সারা জীবন ধরে তিনি মানুষের প্রকৃত বিকাশ এবং জীবন ও মহাজীবনের পরম সত্য অন্বেষণ তথা উন্মোচনের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। মানুষকে অজ্ঞান-অন্ধত্ব থেকে মুক্ত করতে, মানব মনের সঠিক বিকাশ ঘটাতে, তিনি সুদীর্ঘকালের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় মানুষ গড়ার এক অত্যুৎকৃষ্ট শিক্ষা পদ্ধতি আমাদের দিয়েছেন, যার নাম। ‘মহামনন’ আত্ম-বিকাশ যোগ শিক্ষাক্রম। সদগুরু মহামানস একজন বহুমুখী সৃজন ক্ষমতা সম্পন্ন বহুব্যপক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শিল্পী, গবেষক, মনোবিদ ও শিক্ষাবিদ। একজন জ্ঞান পথের ও বিকাশ পথের পথিক।